‘পরের প্রজন্মের হাতে ৭ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়ার দিন চলে এল’, অবসর ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর, ২০২৬

‘২০০৩ সালের অগস্ট মাসে যে যাত্রা শুরু হয়ে আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছিল, আজ তার সমাপ্তি ঘটছে।’ বৃহষ্পতিবার দুপুর ৩টে ৫২ মিনিটে ইন্সটাগ্রামে ৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের এক ভিডিয়ো বার্তায় এমন ঘোষণা করলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো। অবসর নিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে। জাতীয় দল যেই সাত নম্বর জার্সি তাঁকে দিয়েছিল সেটা নতুন প্রজন্মের হাতেতুলে দিলেন তিনি। শেষ করলেন দেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোলদাতা হয়ে।
২০০৩ সালে পর্তুগালের জার্সিতে অভিষেক করেন ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি ২৩৪টা ম্যাচে ১৪৬টা গোল করেছেন। ঝুলিতে রয়েছে ২০১৯ সালের ইউরো কাপ, ২০১৮-১৯ ও ২০২৪-২৫ মরশুমের UEFA নেশন্স লিগ।
এ দিন রোনাল্দো তাঁর অবসরের ঘোষণা করেন পর্তুগিজ়ে। ভিডিয়োতে দেখা যায়, তিনি একটি ঘরে সোফায় বসে আছেন, হাতে একটা কাগজ। সেই কাগজ দেখে তিনি পড়তে শুরু করেন।
‘হৃদয়ের টানেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত, সময় এসেছে জার্সি ফিরিয়ে দেওয়ার’
২০০৩ সালের অগস্ট মাসে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল মিদেইরার সেই কিশোরের। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে লড়াই করার পর বিদায়লগ্নে রোনাল্দো জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগাপ্লুত রোনাল্দো বলেন, ‘অবশেষে জাতীয় দলের এই ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার দিনটি চলেই এল। আমি কখনই এই জার্সিকে শুধু আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করিনি। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে এর মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছি, এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে নিতে হয়। আজ সময় এসেছে আগামী প্রজন্মের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়ার।’
A post shared by Cristiano Ronaldo (@cristiano)
‘রেকর্ড মুছে যেতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের ভালোবাসা চিরন্তন’
নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের খতিয়ান টানতে গিয়ে রেকর্ড ও ট্রফির চেয়েও মানুষের ভালোবাসাকেই এগিয়ে রেখেছেন পর্তুগিজ় অধিনায়ক। ইউরো ২০১৬ এবং নেশন্স লিগজয়ী তারকা বলেন, ‘পেছন ফিরে তাকালে আমি শুধু গোল, ট্রফি বা সংখ্যা দেখতে পাই না; আমি মানুষকে দেখতে পাই। পর্তুগিজ়দের মুখের আনন্দ দেখতে পাই। গোল সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যাবে, ট্রফিগুলো হয়তো সাজানো থাকবে মিউজ়িয়ামে, রেকর্ডও একদিন না একদিন ভাঙবেই। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে আমরা যে জায়গাটা অর্জন করি, সময় কখনও তা মুছে ফেলতে পারে না।’
দেশের হয়ে বহু নিখুঁত মুহূর্ত ও জয়ের স্মৃতির পাশাপাশি ব্যর্থতার যন্ত্রণার কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তবে কখনো দেশের জার্সির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একচুলও সরে আসেননি বলে স্পষ্ট জানান CR7।
সতীর্থ, পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ালেও জাতীয় দলের নিয়মিত সমর্থক হিসেবে চিরকাল পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। সতীর্থদের উদ্দেশে রোনাল্দো বলেন, ‘আপনাদের অধিনায়ক হতে পারা আমার জীবনের বিরাট এক পাওয়া। কোনও অধিনায়কই একা পথ চলতে পারে না, তোমরা প্রত্যেকেই আমার ইতিহাসের অংশ।’
একই সঙ্গে দীর্ঘ এই কঠিন সফরে পরিবারের ত্যাগ, কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, এবং নেপথ্যের সমস্ত কর্মীদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বুটজোড়া আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে রাখার মুহূর্তে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছেন জানিয়ে রোনাল্দো বলেন, ‘মিদেইরার রাস্তায় যে ছেলেটি খালি পায়ে বলের পেছনে ছুটত, তাকে নিজের স্বপ্ন বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। বিশ্বের সেরা ফুটবলার হওয়ার জন্য সারাজীবন লড়াই করেছি, কিন্তু আজ বুঝতে পারি—বিশ্বের সেরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’


