প্রকাশ: ৩ অক্টোবর, ২০২৬

কুণাল বসু
২৪ সেপ্টেম্বর। ২ সেপ্টেম্বর। ৩ অক্টোবর।
কলকাতার ফুটবল ঐতিহ্যে যোগ হতে চলেছে আরও একটি স্মরণীয় দিন। প্রথম তারিখটি ১৯৭৭ সালে ইডেনে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পেলের কসমস ক্লাবের খেলার দিন। দ্বিতীয়টি ২০১১ সালে যুবভারতীতে লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনা বনাম ভেনেজ়ুয়েলা ম্যাচের। তার পরেই ৩ অক্টোবর, ২০২৬। ভারত বনাম ব্রাজ়িল। লালমোহনবাবু থাকলে নিশ্চয়ই বলতেন, ‘চোখ কচলে দেখতে হচ্ছে মশাই!’
শেষ পর্যন্ত স্কোর যাই হোক, পাঁচ বারের বিশ্বকাপজয়ীদের বিরুদ্ধে ভারতকে খেলতে দেখার ব্যাপারটা উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছে অনেকের মধ্যে। সে যতই এই ব্রাজ়িল রোনাল্দো–রোনাল্দিনহো–কাকাদের টিমের মতো ভয়ঙ্কর না হোক। সে যতই অতিরিক্ত দামের জন্য টিকিট বিক্রিতে ভাঁটা থাক। সে যতই ম্যাচের আগের সন্ধেতেও হাতে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড না পেয়ে বিরক্ত হন ব্রাজ়িলের সাংবাদিকেরা।
ব্রাজ়িল টিম বাইপাসের ধারের যে পাঁচতারা হোটেলে আছে, সেখানে সকালের প্রেস মিট থেকে বিকেলের যুবভারতীতে ভিনিসিয়াস–মার্কিনিওসদের প্র্যাক্টিস— সব কিছুর সাক্ষী আপাতত শুধু মিডিয়াই। শনিবারের যুবভারতী অপেক্ষায় কলকাতার দর্শকদের জন্য। রিও দে জেনেইরোর এক টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক রদ্রিগো শুক্রবার বিকেলে যুবভারতীতে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করছিলেন, সবচেয়ে বেশি দামি টিকিট কত দামের? ভারতীয় মূল্যে ১৫০০০ টাকা, বা প্রায় ১৫৬ ডলার শুনে রদ্রিগো বললেন, ‘ব্রাজ়িলের হিসেবেও এটা বেশ দামি।’ রদ্রিগো জুড়ে দেন, ‘মারাকানায় ফিফা ফ্রেন্ডলিতে সবচেয়ে কম দামি টিকিটটা ২৫–৩০ ডলারের মতো।’ অর্থাৎ ভারতীয় মূল্যে ২৫০০–২৯০০ টাকার মতো। যা আজকের ব্রাজ়িলের ম্যাচের সবচেয়ে কম দামি টিকিট ১০০০ টাকার চেয়ে অবশ্য বেশি। রদ্রিগোর জিজ্ঞাসা, ‘কাল স্টেডিয়াম ভরে যাবে?’ কে আর বুক ঠুকে এর জবাব দিতে পারবে!
বরং বুক ঠুকে আজ দাপিয়ে খেলুক ব্রাজ়িল। ভারতও পানামা ম্যাচের মতো ফিরিয়ে দিক তুমুল লড়াই। বুক ঠুকে খেলুক, কারণ, বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজ়িল টিমের স্লোগান ছিল, ‘বাচি নো পেতু।’ কলকাতায় যে ব্রাজ়িল–রঙা বাসে ভিনিরা ঘুরছেন, সেই বাসের গায়েও লেখা এই স্লোগানটা। পর্তুগিজ়ে ‘বাচি নো পেতু’–র অর্থ ‘বিট ইওর চেস্ট’ অর্থাৎ, বুকে চাপড় মারা।
শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ যুবভারতীতে নীল প্র্যাক্টিস জার্সি, সবুজ শর্টস পরা প্লেয়াররা একে–একে নামছিলেন মাঠে। হাজির সাংবাদিকদের চোখ খুঁজছিল তাঁকে। যিনি এর আগেও ভারতে এসেছেন, খেলেছেন, ট্রফি হাতে তুলেছেন। টুর্নামেন্টের টপ স্কোরারও হয়েছেন চার গোল করে। ১০ বছর আগে গোয়ায় ব্রিকস কাপে ব্রাজ়িলের অনূর্ধ্ব ১৭ টিমের হয়ে খেলেছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তখন উঠতি তারকা। পরের বছরে ভারতেই অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে তাঁকে ফের দেখার প্রত্যাশা বাড়লেও তাঁর ক্লাব ফ্লামেঙ্গো তাঁকে ছাড়েনি। তবে ভিনিকে এ দেশে আসতেই হলো আবার। রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজ়িলের হয়ে তারকা হওয়ার পরে। মাঝে রিয়ালের জার্সিতে জিতেছেন তিনটি লা লিগা, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগই ইতালিয়ান কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির ছাত্র হিসেবে। যে ডন কার্লো এখন ব্রাজ়িলের কোচ। নেইমারহীন ব্রাজ়িল টিমের চুম্বক ভিনিই।
এই ব্রাজ়িলকে রোখার প্ল্যান কী? ভারতের কোচ খালিদ জামিলের মন্তব্য, ‘এ রকম একটা ম্যাচের চাপ থাকবেই। তবে আমাদের জীবনের সেরা খেলাটা খেললে যে কোনও ফলাফল হতে পারে।’ পানামার বিরুদ্ধে যাঁর খেলা প্রশংসিত, সেই ডিফেন্ডার আনোয়ার আলির মন্তব্য, ‘গোল করার সুযোগ পেলে অবশ্যই করব। মাঠে সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। আমাদের জন্য এটা বিরাট ম্যাচ।’ অনূর্ধ্ব ২০–তে আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ফ্রি–কিক থেকে গোল ছিল আনোয়ারের। সে জন্যই গোলের প্রসঙ্গ। গোয়ায় যে ব্রিকস কাপে ভিনি খেলেছিলেন, সেই টুর্নামেন্টে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন এখনকার টিমের একমাত্র আপুইয়া। কেরিয়ারে দ্বিতীয়বার ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। সে তো স্বপ্নের মতোই।
স্বপ্ন দেখার পালা আজ শনিবার। সঙ্গে স্বপ্নপূরণের দিন। যুবভারতীতে যদি লর্ডসের মতো অনার বোর্ড থাকত, তা হলে এই ম্যাচটার স্কোরলাইন অবধারিত জ্বলজ্বল করত সোনালি অক্ষরে। যেখানে নেতিবাচক ব্যাপারগুলো লেখা থাকে না।
আরও পড়ুন


