‘ভারতে ফুটবলের সংস্কৃতিই নেই’, কলকাতায় পা রাখার আগেই বিস্ফোরক কার্লো আন্সেলোত্তি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারতে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার অভাব নেই। কিন্তু সেই উন্মাদনাকে এখনও শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতিতে বদলে ফেলা যায়নি— এমনই মন্তব্য করলেন ব্রাজ়িলের (Brazil) হেড কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি (Carlo Ancelotti)। ভারতের ফুটবল কাঠামো নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তাঁর দাবি, দেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরির জন্য আরও শক্তিশালী তৃণমূল স্তরের ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।
আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারত-ব্রাজ়িল প্রীতি ম্যাচ। তার আগে ব্রিসবেন থেকে এক সাক্ষাৎকারে আন্সেলোত্তি জানালেন, ভারতে আসতে তিনি যথেষ্ট উত্তেজিত। তবে ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তাঁর মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এই প্রতিবেদন থেকে যা জানবেন
ভারতীয় ফুটবল নিয়ে ঠিক কী মন্তব্য করেছেন কার্লো আন্সেলোত্তি?
কেন ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাজ়িলের কোচ?
কলকাতায় ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচ নিয়ে কী বলেছেন আন্সেলোত্তি?
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের সাম্প্রতিক ফলাফল কেমন?
ভারতের যুব ফুটবলের পরিকাঠামোয় কোথায় সমস্যা রয়েছে?
কেন নিয়মিত নতুন প্রতিভা তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে?
‘ভারতে ফুটবলের সংস্কৃতি নেই’
আন্সেলোত্তির মতে, ভারতের ফুটবলের উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি হলো শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতির অভাব। তিনি বলেন, অন্য খেলায় ভারত ভালো করলেও ফুটবলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি করার জন্য আরও বেশি কাজ করতে হবে। ব্রাজ়িলের কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা সংস্কৃতির সমস্যা। ভারতে ফুটবলের সংস্কৃতি নেই। তবে অন্য খেলায় ভারত ভালো। নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করতে এই জায়গাটায় কাজ করতে হবে।’ তাঁর মতে, তৃণমূল স্তর থেকেই যদি আরও বেশি সংখ্যায় তরুণ ফুটবলারকে তৈরি করা যায়, তা হলে ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড়ের বড় পুল তৈরি করা সম্ভব হবে।
কলকাতায় আসতে মুখিয়ে আন্সেলোত্তি
ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচটি হবে কলকাতায় ৩ অক্টোবর। সেই ম্যাচের আগে আন্সেলোত্তি জানিয়ে দেন, ভারতে আসার অভিজ্ঞতা তাঁর আগে হয়নি। কলকাতায় আসার জন্য তিনি যথেষ্ট উত্তেজিত। পাশাপাসি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটিকে শুধু ফলাফলের দিক থেকে দেখছেন না ব্রাজ়িলের কোচ। তাঁর মতে, আলাদা দেশের ফুটবল সংস্কৃতি এবং খেলার ধরন সম্পর্কে জানা আন্তর্জাতিক ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ।
আন্সেলোত্তির দাবি, ‘আমাদের অন্য দেশ এবং অন্য সংস্কৃতিকে জানতে হবে। আমরা বিভিন্ন ধরনের দলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলতে অভ্যস্ত। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আকর্ষণীয় হবে। এটা ঠিক যে বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে ভারতের খুব বেশি খেলার অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু ভারত কী ভাবে খেলে, সেটা আমাদের জানাও গুরুত্বপূর্ণ। আমি আগে কখনও ভারতে আসিনি। কলকাতায় যেতে আমি মুখিয়ে রয়েছি।’
ভারতের সামনে রয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সেই ম্যাচগুলি। পানামা, ব্রাজ়িল এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। শেষ দু’টি ম্যাচই হবে কলকাতায়।
বিশ্বকাপ থেকে এশিয়ান কাপ— চ্যালেঞ্জ কমেনি
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের সাম্প্রতিক ফলাফলও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৪ সালের জুনে কাতারের কাছে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ হারায় ভারত। এর পর ২০২৭ AFC এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও ব্যর্থ হয় ভারতীয় দল। ছ’টি ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে শেষ করে তারা। শেষ ম্যাচে হংকংকে ২-১ গোলে হারানোই ছিল ভারতের একমাত্র জয়। গ্রুপের একমাত্র যোগ্যতা অর্জনের জায়গাটি পায় সিঙ্গাপুর।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও ভারতের অবস্থান নেমেছে। ২০২৬ সালের ২০ জুলাই প্রকাশিত ফিফার সরকারি র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ছিল ১৩৮ নম্বরে। শুধু জাতীয় দল নয়, দেশের ঘরোয়া ফুটবল নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৫ সালে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) সঙ্গে রিলায়েন্সের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব শেষ হওয়ার পর ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। নতুন মরশুমের সূচি এবং সম্প্রচারকারী নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। জামশেদপুর এফসির সরে দাঁড়ানোও পরিস্থিতির জটিলতা সামনে এনেছে।
যুব ফুটবলে ম্যাচ এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতি
ভারতের ফুটবলের অন্যতম বড় সমস্যা রয়েছে প্রতিভা তৈরির প্রক্রিয়াতেও। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের তরুণ ফুটবলারদের তুলনায় ভারতীয় যুব ফুটবলাররা অনেক কম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে এখনও পর্যাপ্ত যুব লিগ নেই। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কোচের অভাবও রয়েছে। ফলে প্রতিভা থাকলেও তাদের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ এবং সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সব জায়গায় তৈরি করা যাচ্ছে না।
ভারতে ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহের অভাব নেই। বিভিন্ন রাজ্য এবং শহরে ফুটবলকে ঘিরে রয়েছে প্রবল আবেগ। কিন্তু সেই আবেগকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় নিয়ে গিয়ে নিয়মিত নতুন ফুটবলার তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
FAQ
প্রশ্ন: কার্লো আন্সেলোত্তি ভারতীয় ফুটবল নিয়ে কী বলেছেন?
উত্তর: আন্সেলোত্তি বলেছেন, ভারতে এখনও শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি তৈরি হয়নি। নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করতে তৃণমূল স্তরে আরও কাজ করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন: ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচ কবে হবে?
উত্তর: ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারত ও ব্রাজ়িলের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা।
প্রশ্ন: কলকাতায় আসা নিয়ে কী বলেছেন আন্সেলোত্তি?
উত্তর: তিনি জানিয়েছেন, এর আগে কখনও ভারতে আসেননি। কলকাতায় আসার জন্য তিনি খুবই উত্তেজিত।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের সাম্প্রতিক সমস্যা কী?
উত্তর: ভারত ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি। ২০২৭ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও ব্যর্থ হয়েছে।
প্রশ্ন: ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবস্থান কত?
উত্তর: ২০২৬ সালের ২০ জুলাই প্রকাশিত সরকারি ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ভারত ১৩৮ নম্বরে ছিল।
প্রশ্ন: যুব ফুটবলে ভারতের প্রধান সমস্যা কী?
উত্তর: তরুণ ফুটবলারদের পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রাজ্যে যুব লিগ এবং প্রশিক্ষিত কোচের ঘাটতিও রয়েছে।
আন্সেলোত্তির মন্তব্যে ভারতের ফুটবলের পুরনো সমস্যাটাই সামনে এসেছে। প্রতিভা থাকলেই হবে না, নিয়মিত নতুন ফুটবলার তৈরির ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভালো করতে হলে তৃণমূল স্তর থেকেই সেই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।


