৩০ বলে সেঞ্চুরির পরই ১০ বার ডাক, অভিষেকের নাম উঠল অদ্ভুত রেকর্ডে
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কয়েক দিন আগেই ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে টি-টোয়েন্টিতে ঝড় তুলেছিলেন ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই বিধ্বংসী ইনিংসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রেকর্ডে আলোচনায় তিনি। তবে এবার কীর্তিটি ব্যাট হাতে নয়, বরং শূন্য রানে ফেরার কারণে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাপানের বিপক্ষে ভারতের ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র এক বল খেলে কোনো রান না করেই আউট হন অভিষেক। এর ফলে ২০২৬ সালে সব ধরনের টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ডাকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টি। ক্রিকেট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক পঞ্জিকা বছরে টি-টোয়েন্টিতে কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড এখন অভিষেকের দখলে।
অভিষেকের এই ১০টি ডাকের আগে রেকর্ডটি যৌথভাবে ছিল আফগানিস্তানের রশিদ খান ও পাকিস্তানের শাদাব খানের দখলে। রশিদ ২০১৯ সালে এবং শাদাব ২০২৪ সালে এক পঞ্জিকা বছরে ৯টি করে ডাক মেরেছিলেন। জাপানের বিপক্ষে শূন্য রানে ফেরার পর তাঁদের ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন ভারতীয় ওপেনার।
অদ্ভুত বিষয় হলো, একই বছরে অভিষেকের ব্যাট আবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও উপহার দিয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে দুটি সেঞ্চুরি ও ১০টি ফিফটি। অর্থাৎ একদিকে যেমন শূন্য রানে ফেরার রেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে বড় ইনিংস খেলার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন ধারাবাহিক।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে দিল্লিতে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩০ বলে শতরানের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন অভিষেক।
_সংগৃহীত ছবি
শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরি এবং পুরুষদের T20I ইতিহাসে এটি তৃতীয় দ্রুততম শতক।
অভিষেকের সেই ইনিংসের মাত্র পাঁচ দিন পরই অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় জাপানের বিপক্ষে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি নেমে আসে পাঁচ ওভারে। ভারত টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর ওপেন করতে আসেন অভিষেক। কিন্তু জাপানের চার্লি হারা-হিনজের বলে ক্যাচ দিয়ে প্রথম বলেই বিদায় নেন তিনি। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রেকর্ড সেঞ্চুরি থেকে গোল্ডেন ডাক—দুই বিপরীত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ভারত ও জাপানের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মুখোমুখি লড়াই। এ ম্যাচটি এশিয়ান গেমসের আগে ভারতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে অভিষেকের ব্যাট থেকে কোনো রান না আসায় তাঁর ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে যোগ হয় আরেকটি শূন্য।
চলতি বছরে শুধু সব ধরনের টি-টোয়েন্টি নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও শূন্যের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছেন অভিষেক। জাপানের বিপক্ষে ডাকসহ ২০২৬ সালে তাঁর T20I-তে শূন্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটি। এক বছরে T20I-তে সর্বোচ্চ সাতটি ডাকের রেকর্ডে এর আগে রুয়ান্ডার জ্যাপি বিমেনিমানিয়া ও অর্চিডে তুইসেঙ্গে এবং পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবের নাম ছিল।
আর জাপানের বিপক্ষে প্রথম বলেই আউট হওয়ায় ২০২৬ সালে T20I-তে অভিষেকের গোল্ডেন ডাকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটি। এই পরিসংখ্যানও তাঁকে পুরুষদের T20I-তে এক বছরে সর্বোচ্চ গোল্ডেন ডাকের রেকর্ডের সমান উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালটি অভিষেক শর্মার জন্য পরস্পরবিরোধী পরিসংখ্যানের বছর হয়ে উঠেছে। একদিকে দ্রুততম ভারতীয় T20I সেঞ্চুরির রেকর্ড, অন্যদিকে এক পঞ্জিকা বছরে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ১০টি ডাক—একই বছরে এমন দুই চরম পরিসংখ্যানের মালিক এখন এই ভারতীয় ওপেনার।
তথ্যসূত্র: International Cricket Council (ICC), Times of India, NDTV Sports, Cricbuzz
আরও পড়ুন


