Advertisement

বিড়ালের খোঁজে এলাকায় মাইকিং, সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার

প্রথম আলো

প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬

নিখোঁজ বিড়াল ‘মিরুশি’ছবি: সংগৃহীত
নিখোঁজ বিড়াল ‘মিরুশি’ছবি: সংগৃহীত

চার দিন আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ‘মিরুশি’ নামের পার্সিয়ান জাতের সাত মাস বয়সী একটি বিড়াল। বিড়ালটির সন্ধানে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন দুই বোন।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরে। শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লস্করপুর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী দুই বোন হাবিবা ইসলাম ও আয়শা ইসলাম ওই বিড়ালটি পুষতেন।

শুধু ‘মিরুশি’ নয়, বিদেশি ও দেশি মিলিয়ে তাঁদের আরও সাতটি বিড়াল রয়েছে। হাবিবা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন আর ছোট বোন আয়শা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) অধ্যয়নরত।

হাবিবা গতকাল বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘নিখোঁজ সংবাদ’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। তাতে বলা হয়, ৪ অক্টোবর তাঁদের পুরুষ বিড়াল ‘মিরুশি’ নিখোঁজ হয়। বিড়ালটির গায়ের রং সাদা ও হালকা ধূসরমিশ্রিত। শরীর ও লেজে ঘন লম্বা পশম রয়েছে। পোস্টে সন্ধানদাতাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

আজ দুপুরে দুই বোনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। হাবিবা ও আয়শা জানান, শৈশব থেকেই বিড়াল পোষেন তাঁরা। বর্তমানে তাঁদের চারটি পার্সিয়ান ও চারটি দেশি জাতের বিড়াল রয়েছে। সেগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকেন।

দুই বোন জানান, ৪ অক্টোবর তাঁদের বাসায় কয়েক জন অতিথি আসেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর খোঁজাখুঁজি করেও ‘মিরুশিকে’ আর পাননি। আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে খোঁজ করেও বিড়ালটি পাওয়া যায়নি। অতিথিরা আসার সময় বাসার প্রবেশ ফটক খোলা ছিল। এ সুযোগে ‘মিরুশি’ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

হাবিবা ও আয়শার ভাষ্য, খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক তরুণকে একটি বিড়াল বুকে জড়িয়ে ধরে হেঁটে নিয়ে যেতে দেখেছেন। তবে ওই তরুণকে চিনতে পারেননি। এ তথ্যের সূত্র ধরে পাশের এক আত্মীয়ের বাসায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। তাতে তরুণকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তাঁর কাছে বিড়াল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এরপর বিড়ালটির সন্ধান চেয়ে লস্করপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাইকিং করানো হয়।

শহরের বাসস্ট্যান্ডে গিয়েও বিড়ালের খোঁজ করেছেন দুই বোন। বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থাপক তাঁদের বলেছেন, ঘটনার পরদিন ৫ অক্টোবর এক তরুণকে বিড়াল কাঁধে করে নিয়ে একটি বাসে উঠতে দেখেন। এ সময় জিজ্ঞাসা করলে ওই তরুণ বাসস্ট্যান্ডের লোকজনকে রসিকতা করে বলেছেন, ‘এইটা শিক্ষিত বিড়াল।’

হাবিবা বলেন, বিড়ালের সন্ধানে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাঁরা সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। সন্ধানদাতাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন বলেও জানান তিনি।

হাবিবা ও আয়শারা চার বোন, এক ভাই। হাবিবা ও আয়শা জানান, ছোটবেলায় দুজনের দুটি দেশি বিড়াল ছিল। একবার তাঁদের বাবা রাগে বিড়াল দুটিকে বাড়ি থেকে দূরে ফেলে রেখে চলে আসেন। স্কুল থেকে ফিরে বিড়াল না দেখে দুই বোন কান্নাকাটি শুরু করে দেন। পরে বাবা বাধ্য হয়ে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বিড়াল দুটি খুঁজতে বের হন। প্রথমে একটি এবং সাত-আট দিন পরে আরেকটির সন্ধান মেলে। বিড়াল দুটিকে খুঁজে পাওয়ায় দুই বোনের আনন্দের সীমা ছিল না।

দুই বোন বলেন, দুই বছর ধরে পার্সিয়ান জাতের বিড়ালগুলো পুষছেন। বিদেশি ও দেশি বিড়ালগুলোকে প্রতিদিন দুই বেলা মুরগির মাংস সেদ্ধ করে খাওয়ান। পাশাপাশি ‘ক্যাটস ফিড’ খাওয়ানো হয়। ওই খাবার কুলাউড়ায় পাওয়া যায় না। কিছুদিন পরপর সিলেট নগরে গিয়ে দোকান থেকে কিনে আনতে হয়।

হাবিবা বললেন, ‘মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে কোনো বিড়াল মারা যায়। কখনো অন্য কোনো পশুকে তাদের আক্রমণ করতে দেখিনি।’ কথাগুলো বলতে একপর্যায়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। হাবিবা বলেন, ‘চার দিন ধরে মিরুশি নিখোঁজ। অনেকে বিড়াল পোষার কথা শুনে ঠাট্টাবিদ্রূপ করে নানা মন্তব্য করেন। এটা খুব কষ্ট দেয়। আমাদের (দুই বোন) মনটা মোটেই ভালো নেই। অবশ্য অনেকে আমাদের পোস্ট শেয়ার করছেন। সবার সহযোগিতায় মিরুশিকে খুঁজে পাব, এই আশায় পথ চেয়ে আছি।’

দুই বোন কুলাউড়া থানায় গিয়ে পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর। তিনি বলেন, ‘আমরা নিখোঁজ বিড়ালটির ছবি ও দুই বোনের নাম-ঠিকানা রেখেছি। বিড়ালটির সন্ধানে চেষ্টা চলছে।’

Lading . . .