জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দুই নেতাকে সাদাপাথর লুট–কাণ্ডে জড়ানো হয়েছে
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৫

জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই সিলেটের দুই জামায়াত নেতাকে পরিকল্পিতভাবে সাদাপাথর লুট–কাণ্ডে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছে দলটি। জামায়াতের অভিযোগ, সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সাদাপাথর লুটের ঘটনায় সিলেট জামায়াতের দুই নেতাকে জড়ানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় মহানগর জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা এ অভিযোগ করেন। সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর লুটের ঘটনায় জামায়াত নেতাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার হচ্ছে দাবি করে দলটি এ কর্মসূচি পালন করে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের চৌহাট্টা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
সম্প্রতি জেলার কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে সাদাপাথর লুটের ঘটনা ঘটে। ১৩ আগস্ট সাদাপাথর এলাকায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাৎ-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ অভিযান চালায়। পরে অভিযানে পাওয়া যাবতীয় তথ্য প্রাথমিক প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানো হয়।
দুদকের পাঠানো ওই প্রতিবেদনে লুটপাটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪২ জন রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তালিকায় বিএনপি, এনসিপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জামায়াতের সিলেট মহানগরের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও জেলার সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনের নামও আছে।
এদিকে দুদকের তালিকায় জামায়াতের দুই নেতার নাম থাকার বিষয়ে ২১ আগস্ট দুপুরে নগরের বন্দরবাজার এলাকায় মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে জামায়াত এক সংবাদ সম্মেলন করে পাথর লুটে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে। তারা বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য’ বলে দাবি করে।
আজ জামায়াতের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলার আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘লুটপাটে জামায়াতের দুই নেতা তো দূরের কথা, কোনো পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকেরও ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। পাথর লুটপাটের জন্য আসল দায়ী প্রশাসন। আর যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করা প্রশাসনের কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘কতিপয় হলুদ মিডিয়া দুদকের কথিত একটি রিপোর্টের সূত্র ধরে জামায়াত নেতাদের চরিত্র হরণে মেতে উঠেছে। দুদককে অবশ্যই এর প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় তাদেরও সিলেটবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নূরুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রব, সিলেট মহানগর শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জামিল আহমদ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরের সভাপতি শাহীন আহমেদ বক্তব্য দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের পতন হলেও জামায়াতকে নিয়ে ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা জামায়াতকে কলুষিত করতে ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছে। প্রশাসন ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থায় এখনো স্বৈরাচারের দোসররা বসে নানা ষড়যন্ত্র করছে।
বালু-পাথর উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে যৌথ বাহিনী ও টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত আছে। সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল ও লালবাগ এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান চলে। এতে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে ওই দুটি এলাকার পাঁচটি পুকুরে পানির নিচে মজুত করে রাখা প্রায় দেড় লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। এসব পাথর স্থানীয় এক ওয়ার্ড সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলায় বাওনহাওর ও শেওলাটুক এলাকায় ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু তোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফরহাদ উদ্দীন। আজ দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানের সময় প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।