আঠা-জাল দিয়ে পাখি শিকার, বিক্রি করার সময় ১৫টি মুনিয়া, শালিক ও টিয়া উদ্ধার
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ব্যস্ত সড়কের পাশে খাঁচাবন্দী বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করছিলেন এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন সেখানে গেলে পাখিগুলো ফেলে পালিয়ে যান বিক্রেতা। পরে পাখিগুলো বিভাগের কার্যালয়ে এনে মুক্ত করে দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, উপজেলা সদরের ডাকঘর সড়ক এলাকায় এক ব্যক্তি খাঁচায় ভরে আনা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করছিলেন। জাতভেদে প্রতি জোড়া পাখির দাম ৫০০–৮০০ টাকা হাঁকেন। পাখি দেখতে ও কিনতে কিছু পথচারী সেখানে জড়ো হন। কেউ কেউ পাখি কিনে নিয়ে যান। আবার কেউ কেউ দরদাম করতে থাকেন। স্থানীয় এক ব্যাংক কর্মকর্তার নজরে পড়ে বিষয়টি। তিনি মুঠোফোনে বিষয়টি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানান।
বেলা তিনটার দিকে বন বিভাগের জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইনের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পাখিগুলো ফেলে বিক্রেতা চলে যান। এ সময় সেখানে খাঁচাবন্দী ১৫টি পাখি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬টি মুনিয়া, ৫টি শালিক ও ৪টি টিয়া ছিল। পরে সেগুলো রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে বিকেল চারটার দিকে খাঁচা থেকে বের করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় জুড়ী রেঞ্জের লাঠিটিলা বিটের ফরেস্টার ফয়ছল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বিক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বনাঞ্চলে গাছে আঠা লাগিয়ে ও জাল পেতে ফাঁদ তৈরি করে পাখিগুলো ধরা হয়। শিকারিদের কাছ থেকে বিক্রেতা পাখিগুলো কেনেন। এরপর পাখিগুলো খাঁচায় ভরে রাখা হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই এ রকম পাখি বিক্রি হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো বন্য প্রাণী ধরা, মারা ও পরিবহন নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। পাখিগুলো জব্দ করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।