সাগরে গভীর নিম্নচাপ, বৃষ্টি বাড়তে পারে আগামীকাল
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বঙ্গোসাগরে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ বুধবার রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। এ নিম্নচাপের বড় ধরনের প্রভাব যে দেশে পড়বে না, সেটা আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল। কারণ, এই গভীর নিম্নচাপটি মূলত ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলমুখী। তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলেও পড়বে। ইতিমধ্যে খুলনা ও বরিশালের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বেড়েছে এবং ঝোড়ো হাওয়াও বইছে।
আজ সন্ধ্যা ৭টায় দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি আজ বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল।
গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, গভীর নিম্নচাপের খুব বেশি প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না। তবে আজ রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টিও হতে পারে।
আজ সন্ধ্যায় ৬টায় দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গাতেও বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কথাও বলা হয়েছে পূর্বাভাসে।
তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, বৃহস্পতিবারে বৃষ্টি হতে পারে বিচ্ছিন্নভাবে। কারণ ওডিশা ও অন্ধ্রের উপকূল থেকে ঘূর্ণি হাওয়া বিচ্ছিন্নভাবে এদিকে আসছে। তাই পুরো বাংলাদেশে একযোগে বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এই বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের পরও আগামীকাল তাপমাত্রা কমে যেতে পারে আজকের চেয়ে।
ইতিমধ্যে গতকালের চেয়ে আজ বুধবার দেশের তাপমাত্রা কমে গেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রংপুরে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনের চেয়ে আজ রাজধানীর তাপমাত্রাও প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে হয়েছে ৩২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


