Advertisement

গলা কাঁপছে, কথা বলতে পারছেন না, কী হলো বিনোদ কাম্বলির?

এই সময়

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিনোদ কাম্বলি,Ei Samay
বিনোদ কাম্বলি,Ei Samay

নয়ের দশকের শুরুতে শারজা থেকে ওয়াংখেড়ে—ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশে তখন একটাই ঝলমলে নাম, বিনোদ কাম্বলি। কানে দুল, গলায় সোনার চেন আর অবলীলায় স্পিনারদের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর সেই দুরন্ত আত্মবিশ্বাস একসময় সারা দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে বুঁদ করে রেখেছিল। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে সময়ের সঙ্গে সেই রূপকথার ছবিটা কী ভাবে ধূসর হয়ে যায়, তার এক মর্মান্তিক প্রমাণ মিলল সমাজমাধ্যমে। সম্প্রতি একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে বিনোদ কাম্বলির একটি ছোট ভিডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে চোখে জল এসে গেছে আট থেকে আশি সব ক্রিকেট অনুরাগীদের।

গত কয়েক বছর ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন ভারতের এই প্রাক্তন বাঁহাতি ব্যাটার। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োটিতে দেখা যাচ্ছে, কাম্বলি একটি বৃদ্ধাশ্রমের ঘরে বসে কথা বলছেন। অত্যন্ত ধীর ও কাঁপা গলায় তিনি বলেন, "বর্তমানে আমার এখানে চিকিৎসা চলছে। এখানকার সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো সত্যিই চমৎকার। এখানে থাকতে গিয়ে কখনো মনে হয় না যে আমি নিজের বাড়ি থেকে দূরে আছি। এখানকার মানুষদের কাছ থেকে আমি অফুরন্ত ভালোবাসা ও সম্মান পাচ্ছি।" কাম্বলি প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করলেও, কথা বলতে গিয়ে যেভাবে তাঁর শব্দ জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং প্রতিটি বাক্য শেষ করতে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছিল, তা দেখেই শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা।

রমাকান্ত আচরেকরের দুই ছাত্র

মুম্বইয়ের বিখ্যাত কোচ রমাকান্ত আচরেকরের দুই সেরা ছাত্র ছিলেন সচিন তেন্ডুলকর এবং বিনোদ কাম্বলি। তৎকালীন হ্যারিস শিল্ডে রেকর্ড ৬৬৪ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপ গড়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন এই দুই কিশোর। অনেকেরই মত ছিল, প্রতিভার বিচারে কাম্বলি হয়তো টেকনিকের দিক থেকে সচিনের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে পরপর দুটো টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে কেরিয়ারের শুরুতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন কাম্বলি। কিন্তু প্রতিভাকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁর মধ্যে ছিল না।

Vinod Kambli’s latest video, he is presently at an elderly care centre in Thane.

Praying for his recovery soon. pic.twitter.com/6k1plg1aCl

যেখানে সচিন তেন্ডুলকর নিজেকে নিংড়ে দিয়ে ২৪ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৪,৩৫৭ রান, ১০০টি আন্তর্জাতিক শতরান, ২০০টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৩০০ ইনিংসে দ্রুততম ১৫ হাজার টেস্ট রানের সব বিশ্বরেকর্ড গড়ে ভারতের ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’-এ পরিণত হলেন; সেখানে কাম্বলির দৌড় জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ হয়ে যায় মাত্র নয় বছরের মাথায়। ভারতের হয়ে ১০৪টি একদিনের ম্যাচে ২,৪৭৭ রান এবং ১৭টি টেস্টে ১,০৮৪ রান করেই চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর আন্তর্জাতিক আঙিনা। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ বাতিলের পর চোখের জলে কাম্বলির মাঠ ছাড়ার দৃশ্য যেমন ক্রিকেট ইতিহাসে এক ট্র্যাজেডি হয়ে রয়েছে, বৃদ্ধাশ্রমের এই ভাইরাল ভিডিয়ো যেন সেই ট্র্যাজেডিরই এক হৃদয়বিদারক দ্বিতীয় পর্ব। আপাতত এই প্রাক্তন ক্রিকেট নক্ষত্রের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থ জীবনের কামনাই করছেন অগণিত ভক্ত।

আরও পড়ুন

Lading . . .