জয়ের স্বপ্ন সত্যি করতে বুধবার প্রথম সেশনেই বাংলার চাই সাত উইকেট, ৮৮ রানে পিছিয়ে দিল্লি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
কল্যাণীতে দিল্লির (Delhi) বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলা (Bengal)। প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানের লিড নেওয়ার পর তৃতীয় দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে দিল্লির রান ৪৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১। এখনও ৮৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা। হাতে সাত উইকেট থাকলেও চতুর্থ দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে বাংলার সামনে জয়ের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশেষ করে দিনের প্রথম সেশনেই দিল্লিকে চাপে ফেলতে পারলে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ থাকবে বাংলার। তবে ক্রিজে রয়েছেন দিল্লির অধিনায়ক আয়ুষ বাদোনি ও অনুজ রাওয়াত। তাঁদের জুটি ভাঙতে না পারলে ম্যাচের লড়াই দীর্ঘ হতে পারে।
শামির চার উইকেটে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে শেষ দিল্লি
ম্যাচের প্রথম দিনে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলা। সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন বোলাররা। মহম্মদ শামির দুরন্ত বোলিংয়ে দিল্লির প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রানে। ৭৭.৩ ওভার ব্যাট করে দিল্লি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন হৃতিক শোকিন। আয়ুষ দোসেজা ৪৫, শার্তক রঞ্জন ৩৩, দিবিজ মেহরা ২৪ এবং অধিনায়ক আয়ুষ বাদোনি ২৩ রান করেন। বাকি ব্যাটাররা বড় রান করতে পারেননি।
বাংলার হয়ে শামি ১৭.৩ ওভার বল করে মাত্র ৩০ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। আমির গনি ৪৫ রান দিয়ে তিনটি এবং আকাশ দীপ ৭৪ রান দিয়ে দু’টি উইকেট পান। মুকেশ কুমার নেন একটি উইকেট। শামির নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিল্লিকে বড় রান তোলা থেকে আটকে দেয়। তবে হৃতিক শোকিনের ৫৬ রানের ইনিংসের সুবাদে লড়াই করার মতো রান তুলেছিল দিল্লি।
সুদীপ-অভিষেকের শতরানে ৪২৯ রান বাংলার
দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে দিল্লির রানকে ছাপিয়ে যায় বাংলা। তব তৃতীয় দিনে দুরন্ত কামব্যাক করেন দিল্লির বোলাররা। যার নিটফল, ১১২ ওভার ব্যাট করে ৪২৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলা। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানের লিড পায় তারা। এই বড় লিডের পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান সুদীপ ঘরামি ও অভিষেক পোড়েলের। সুদীপ ২৩৫ বলে ১৩৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৯টি চার। অন্য দিকে, অভিষেক ২২৮ বলে ১৪৯ রান করেন। তিনি ১৭টি চার ও একটি ছক্কা মারেন।
দু’জনের জুটি দিল্লির বোলারদের দীর্ঘক্ষণ উইকেট থেকে দূরে রাখে। সুদীপ আউট হওয়ার পরেও অভিষেক ইনিংসের হাল ধরে রাখেন। সুমন্ত গুপ্ত ৬২ বলে ৫০ রান করে বাংলার রান আরও বাড়ান। এ ছাড়া অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন ৩৪ এবং অঙ্কুর পাল ১৭ রান করেন। শেষ দিকে আমির গনি ১১ রান যোগ করেন। দিল্লির হয়ে আয়ুষ বাদোনি ১৮ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। দিবিজ মেহরা ও নবদীপ সাইনি দু’টি করে উইকেট পান। হৃতিক শোকিন ও সিমরজিৎ সিং একটি করে উইকেট নেন।
তৃতীয় দিনে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে দিল্লি
১৮৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সাবধানে খেলার চেষ্টা করে দিল্লি। কিন্তু রান তোলার গতি ছিল বেশ মন্থর। ২১ বল খেলে মাত্র ৩ রান করে আকাশ দীপের বলে বোল্ড হন শার্তক রঞ্জন। এর পর আয়ুষ দোসেজা ও সনৎ সাংওয়ান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু ৭৫ বলে ১৯ রান করে মুকেশ কুমারের বলে আউট হন দোসেজা। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের জুটি ভাঙার পর চাপ বাড়ে দিল্লির উপর। সনৎ সাংওয়ান ৯৫ বলে ২৫ রান করে প্রদীপ্ত প্রামাণিকের বলে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার। এর মধ্যেই চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন যশ ধুল। ফলে তৃতীয় দিনের শেষে দিল্লির রান দাঁড়ায় ৪৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১।
বাংলার হয়ে আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার ও প্রদীপ্ত প্রামাণিক একটি করে উইকেট নিয়েছেন। মহম্মদ শামি ১১ ওভার বল করে মাত্র ১৮ রান দিয়েছেন। আমির গনি আট ওভারে ১৬ রান খরচ করেছেন। দিনের শেষে ক্রিজে রয়েছেন দিল্লির অধিনায়ক আয়ুষ বাদোনি ও অনুজ রাওয়াত। বাদোনি ৩৯ বলে চারটি চারের সাহায্যে ২৪ রানে অপরাজিত। রাওয়াত ৩৯ বলে পাঁচটি চার মেরে ২৫ রান করেছেন। এই জুটি চতুর্থ দিনে দিল্লির লড়াইয়ের ভিত হয়ে উঠতে পারে। তাই বাংলার বোলারদের প্রথম লক্ষ্য হবে দ্রুত এই জুটি ভাঙা।


