Advertisement

আউট হয়েও হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়েন, স্ত্রীর ক্যান্সারই বদলে দিয়েছে তারকা কিউয়ি পেসারকে

এই সময়

প্রকাশ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬

বদলে গিয়েছে ব্লেয়ার টিকনারের জীবনদর্শন।,ছবি: ব্লেয়ার টিকনারের ইনস্টাগ্রাম
বদলে গিয়েছে ব্লেয়ার টিকনারের জীবনদর্শন।,ছবি: ব্লেয়ার টিকনারের ইনস্টাগ্রাম

কেরিয়ারের শুরু থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ ছিল। ক্রিকেটের মাঠে প্রত্যাশার চাপও কম সামলাতে হয়নি তাঁকে। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছে নিউ জ়িল্যান্ডের (New Zealand) পেসার ব্লেয়ার টিকনারের (Blair Tickner) জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। ৩৩ বছর বয়সি এই বোলার এখন বুঝেছেন, ক্রিকেটই জীবনের সব কিছু নয়। মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও রয়েছে অনেক বড় একটা জগৎ। তাই এখন খেলার আনন্দের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারকে সময় দেওয়ায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

টিকনারের স্ত্রী সারার ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষ হয়েছে চলতি বছরের অগস্টে। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে এখন নতুন ভাবে ক্রিকেট উপভোগ করতে চান তিনি। ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচের আগে ওয়েলিংটনে নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায় এবং সেই অভিজ্ঞতা কী ভাবে তাঁর ভাবনাচিন্তা বদলে দিয়েছে, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন নিউ জ়িল্যান্ডের এই পেসার।

ব্লেয়ার টিকনার এবং তাঁর স্ত্রী সারার ছবি।

স্ত্রীর ক্যান্সারের লড়াই বদলে দিয়েছে টিকনারের জীবন

২০২৪ সালের মে মাসে অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া ধরা পড়ে সারার। এটি এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার। আট মাস ধরে কঠিন কেমোথেরাপি চলে তাঁর। ২০২৪ সালের অগস্টে ক্যান্সার থেকে মুক্তির খবর মেলে। তবে চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া চলেছে দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে। এই সময়টা টিকনার ও তাঁর পরিবারের কাছে ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাঁদের ছোট মেয়েও রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে টিকনার বলেন, ‘আমার জীবনটা কখনও ভালো গিয়েছে, কখনও খারাপ। এই পুরো সময়টা সারা এবং আমার পরিবার পাশে ছিল, এটা ভেবেই ভালো লাগে। এখন আমি শুধু ক্রিকেটটা উপভোগ করতে চাই। নিজের মতো করে থাকতে চাই‘।

কেরিয়ারের শুরুর দিকে যে চাপ অনুভব করতেন, সেটাও অকপটে জানিয়েছেন তিনি। টিকনারের দাবি, ‘কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। শুরুতে নিজের উপর অনেক চাপ অনুভব করতাম। তার পর সারাহর ক্যান্সারের চিকিৎসার সময়টা আমাদের জন্য খুব কঠিন ছিল।’ সেই কঠিন সময় পেরিয়ে এখন জীবনের অন্য দিকগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি। টিকনার বলেন, ‘এখন কেরিয়ারের শেষ দিকের দিকে এগোচ্ছি। তাই শুধু আনন্দ করে খেলতে চাই। নিজের মতো করে ক্রিকেটটা উপভোগ করতে চাই।’

ব্লেয়ার টিকনার এবং তাঁর স্ত্রী সারার ছবি।

মাঠে মজার মুহূর্ত, ২৩ বলে ৩৪ রান টিকনারের

টিকনারের বদলে যাওয়া মানসিকতার ছাপ তাঁর ক্রিকেটেও দেখা যাচ্ছে। অকল্যান্ডে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে গুরনুর ব্রারের সঙ্গে তাঁর মজার লড়াই নজর কেড়েছিল। বার বার শর্ট বল করছিলেন ভারতের পেসার। এক সময় টিকনার নিজের স্টাম্পের দিকে ইশারা করে যেন তাঁকে সরাসরি স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করার চ্যালেঞ্জ জানান। কিন্তু গুরনুর নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি। ফের শর্ট বল করেন তিনি। সেই বলেই কেএল রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টিকনার। তবে মাঠ ছাড়ার সময়ও মুখে হাসি ছিল তাঁর।

১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৩ বলে ৩৪ রান করেন টিকনার। চারটি ছক্কা ও একটি চার ছিল তাঁর ইনিংসে। অর্শদীপ সিংয়ের এক ওভারেই তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। শেষ দিকে তাঁর এই ঝোড়ো ইনিংস দর্শকদের আনন্দ দিলেও নিউ জ়িল্যান্ডকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।

Lading . . .