বৃষ্টিতে ভাসল ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন ম্যাচ, ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়েও সিরিজ় অধরা ভারতের
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
চার বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে প্রত্যাবর্তন। তাঁকে ঘিরে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমারের (Bhuvneshwar Kumar) প্রত্যাবর্তনের রাতটা শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় হয়ে রইল বৃষ্টির জন্য। বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের (India vs West Indies) পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে খেলা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ করা গেল না। ফলে সিরিজ় নির্ণায়ক ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ২-২ ব্যবধানে সিরিজ় শেষ করল দুই দল।
সিরিজ় ড্র হওয়াটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি, কিন্তু ভারতের কাছে তা হতাশার। কারণ, শক্তি, অভিজ্ঞতা, দলের গভীরতা— সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল টিম ইন্ডিয়া। ঘরের মাঠে সিরিজ় জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আর ভুবনেশ্বর? প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগই পেলেন না এই অভিজ্ঞ পেসার।
বৃষ্টির জন্য প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত ন’ওভারের ম্যাচ
শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর আবহাওয়া ম্যাচের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টির কারণে প্রায় দু’ঘণ্টা ক্রিকেটারদের সাজঘরে অপেক্ষা করতে হয়। শেষ পর্যন্ত মাঠ খেলার উপযুক্ত করে তোলার চেষ্টা সফল হওয়ায় ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়। তবে সময়ের অভাবে দুই দলের ইনিংসই কমিয়ে ন’ওভার করে দেওয়া হয়।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অধিনায়ক শাই হোপ (Shai Hope)। ভারতের প্রথম একাদশে ছিল দু’টি পরিবর্তন। দীর্ঘ ১,৪২৫ দিন পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামেন ভুবনেশ্বর। তাঁর সঙ্গে দলে ফেরেন শিবম দুবে (Shivam Dube)। অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি নীতীশ কুমার রেড্ডি (Nitish Kumar Reddy)। অন্য দিকে, হায়দরাবাদে আগের ম্যাচে বড় জয় পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ় তাদের প্রথম একাদশে কোনও পরিবর্তন করেনি।
ভুবনেশ্বরকে ফের ভারতের জার্সিতে দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন দর্শকরা। ৩৬ বছর বয়সি পেসারকে একাদশে নেওয়ার কথা ঘোষণা হতেই চিন্নাস্বামীতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru) হয়ে গত দুই মরশুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলেছিলেন তিনি। এই দুই মরশুমে তাঁর ঝুলিতে এসেছে ৪৫টি উইকেট। ২০২৬ সালের আইপিএলে ২৮টি উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন ভুবনেশ্বর। কিন্তু বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের আনন্দ থাকলেও বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেলেন না তিনি।
ঈশান-নমনের ঝোড়ো ব্যাটিং, দ্রুততম দলগত অর্ধশতরান ভারতের
ন’ওভারের ম্যাচে শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যে ঝাঁপায় ভারত। প্রথম ওভারেই অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) উইকেট হারালেও রান তোলার গতি কমেনি। ওয়াইড, নো-বল এবং ছক্কার সাহায্যে প্রথম ওভারে ১৪ রান তোলে ভারত। দ্বিতীয় ওভারে রোমারিও শেফার্ডের (Romario Shepherd) বিরুদ্ধে ঝড় তোলেন ঈশান কিষান (Ishan Kishan)। ওই ওভারেই আসে ২৪ রান। মাত্র ২.৫ ওভারে ৫০ রানে পৌঁছে যায় ভারত। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই ভারতের দ্রুততম দলগত অর্ধশতরান। এর আগে ২০২৬ সালেই হায়দরাবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তিন ওভারে ৫০ রান তুলেছিল ভারত। এ বার নিজেদের সেই রেকর্ড ভেঙে দিল টিম ইন্ডিয়া।
ঈশান মাত্র ১০ বলে তিনটি চার ও দু’টি ছক্কার সাহায্যে ৩০ রান করে আউট হন। এর পর সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) করেন ১৬ রান। শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) ১৪ বলে ২২ রান করে ফেরেন। তিলক বর্মা (Tilak Varma) করেন সাত রান। নিয়মিত উইকেট পড়লেও দ্রুত রান তোলার চেষ্টা চালিয়ে যায় ভারত। সাত ওভারের পর ভারতের রান একশোর গণ্ডি পেরিয়ে যায় নমন ধীরের (Naman Dhir) আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে। ক্রিজ়ে নেমেই কিমো পলকে (Keemo Paul) ছক্কা ও চার মারেন তিনি। পরে শামার স্প্রিঙ্গারের (Shamar Springer) বলেও ছক্কা হাঁকান নামান। মাত্র ছ’ বল খেলে অপরাজিত ২৪ রান করেন তিনি। তবে তাঁর এই ঝোড়ো ব্যাটিংও ভারতকে বড় রানে পৌঁছনোর সুযোগ করে দিতে পারেনি।
বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল নির্ণায়ক ম্যাচ
ভারত যখন বড় রানের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই ফের বৃষ্টি শুরু হয়। ৭.৪ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১১৮ রান তুলেছিল টিম ইন্ডিয়া। খেলা ফের শুরু করার চেষ্টা হলেও বৃষ্টি থামার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে পাঁচ ওভার করা হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়াত ৮৫ রান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। রাত ১০টা ২১ মিনিট ছিল পাঁচ ওভারের ম্যাচ শুরু করার শেষ সময়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
ফলে সিরিজ়ের শেষ ম্যাচে আর রান তাড়া করার সুযোগই পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে দু’টি করে জয় পেয়েছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। শেষ ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ট্রফি ভাগ করে নিতে হয়েছে দুই দলকে। ভারতের কাছে এই ফল নিঃসন্দেহে হতাশার। ঘরের মাঠে খেলা, শক্তিশালী ব্যাটিং বিভাগ এবং তুলনায় গভীর দল— সব মিলিয়ে সিরিজ় জয়ের দাবিদার ছিল ভারতই। কিন্তু শ্রেয়স আইয়ারের দল দুই ম্যাচ আগেই হেরে বসায়, সিরিজ় হাতছাড়া হয়ে গেল ভারতের।


