Advertisement
  • হোম
  • বিনোদন
  • পাঁচ বছরেই ইতি, ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন হলিউড অভিনেত...

পাঁচ বছরেই ইতি, ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি!

গণকন্ঠ

প্রকাশ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬

_সংগৃহীত ছবি।
_সংগৃহীত ছবি।

হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলির ব্যবসায়িক উদ্যোগে বড় ধাক্কা। মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় নিজের পানীয় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় দুটি পানীয় ব্র্যান্ড বেটি বাজ (Betty Buzz) ও বেটি বুজ (Betty Booze) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

২০২১ সালে অ্যালকোহলমুক্ত পানীয় ও ককটেল মিক্সার ব্র্যান্ড বেটি বাজ চালুর মধ্য দিয়ে পানীয় ব্যবসায় যাত্রা শুরু করেন ব্লেক লাইভলি। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে বাজারে আনেন বেটি বুজ। এই ব্র্যান্ডের অধীনে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতকৃত ক্যানজাত ককটেল বাজারজাত করা হতো। টেকিলা ও বোরবনের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভদকা দিয়ে তৈরি পানীয়ও যুক্ত হয় পণ্য তালিকায়।

শুরুতে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিল তাঁর এই ব্যবসায়িক উদ্যোগ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য দুটি ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে বেটি বুজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় পানীয় পরিবেশক সাউদার্ন গ্লেজার্স ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিটসের জাতীয় পর্যায়ের পরিবেশনা চুক্তি হয়। এর ফলে হোল ফুডস, স্প্রাউটস এবং টোটাল ওয়াইন অ্যান্ড মোরের মতো প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ডটির পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে ব্যবসাটির পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ব্লেক লাইভলির অভিনীত সিনেমা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’-এর প্রচারণাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হলে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়। সিনেমাটির পরিচালক ও সহ-অভিনেতা জাস্টিন বালডোনির সঙ্গে পরবর্তী সময়ে আইনি বিরোধেও জড়ান তিনি।

এ ঘটনায় তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও চাপের মুখে পড়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইনকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনি বিরোধের সময় প্রকাশ্যে আসা অভ্যন্তরীণ কিছু নথিতে ২০২৪ সালের আগস্টে বেটি ব্র্যান্ডগুলোর অ্যামাজন ও খুচরা বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এমনকি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্রোগারের পক্ষ থেকেও ব্র্যান্ডটির বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ব্লেকের সিনেমার প্রচারণা ঘিরে তৈরি হওয়া নেতিবাচক পরিস্থিতি পণ্য বিক্রিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কর্মকর্তারা।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পেছনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রেডমার্কসংক্রান্ত কিছু তথ্য। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেটি বাজ ও বেটি বুজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নতুন পণ্যের ট্রেডমার্ক আবেদন পরিত্যক্ত হয়েছে। এসব আবেদনের মধ্যে বিয়ারভিত্তিক পানীয় এবং নতুন ধরনের অ্যালকোহলমুক্ত কার্বনেটেড পানীয়ের বিষয়ও ছিল।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেটি বাজ ও বেটি বুজের মূল ট্রেডমার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে। ফলে কয়েকটি ট্রেডমার্ক আবেদন পরিত্যক্ত হওয়াকে সরাসরি দুটি ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে ব্র্যান্ড দুটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাও অনেকটা কমে গেছে। ইনকের তথ্য অনুযায়ী, বেটি বাজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ পোস্ট করা হয়েছিল গত ৫ এপ্রিল। আর বেটি বুজের সর্বশেষ পোস্ট ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর। পাশাপাশি বেটি বাজের পণ্য অ্যামাজন ও হোল ফুডসের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বেটি বুজের কিছু পণ্য এখনো টোটাল ওয়াইন অ্যান্ড মোরসহ কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্রে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

পিপল সাময়িকীকে দেওয়া একটি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্লেক লাইভলির পানীয় প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, পানীয় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার খবর এলেও ব্লেক লাইভলির অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ বন্ধ হচ্ছে না। ২০২৪ সালে চালু করা তাঁর প্রসাধনী ও চুলের যত্নের ব্র্যান্ড ব্লেক ব্রাউন বিউটি এখনো সক্রিয় রয়েছে। ফলে আপাতত তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিবর্তন মূলত পানীয় ব্র্যান্ড দুটিকে ঘিরেই।

হলিউডের পর্দার বাইরেও ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন ব্লেক লাইভলি। কিন্তু পাঁচ বছরের মাথায় সেই যাত্রায় ইতি টানার খবর সামনে আসায় তাঁর ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Sources: Inc, People, TMZ, Page Six, IBTimes UK

আরও পড়ুন

Lading . . .