Advertisement
  • হোম
  • বিনোদন
  • ঢাকায় তিন কনসার্টের অনুমতি নিয়ে ধোঁয়াশা, কী বলছে ক...

ঢাকায় তিন কনসার্টের অনুমতি নিয়ে ধোঁয়াশা, কী বলছে কর্তৃপক্ষ

প্রথম আলো

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিন কনসার্টের পোস্টার। কোলাজ
তিন কনসার্টের পোস্টার। কোলাজ

আগামী শুক্র ও শনিবার ঢাকায় হওয়ার কথা তিনটি কনসার্ট। এসব আয়োজনে জনপ্রিয় বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিল্পীদেরও পারফর্ম করার কথা। আয়োজকদের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে টিকিট। তবে অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক দিন আগে এখনো মেলেনি চূড়ান্ত অনুমতি। ফলে কনসার্টগুলো আদৌ নির্ধারিত সময়ে হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি কনসার্টের আয়োজক আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সময়মতো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কয়েকটি সরকারি সংস্থা এখনো তাদের প্রতিবেদন দেয়নি। এ কারণে অনুমতির প্রক্রিয়া শেষ করা যাচ্ছে না। অনুমতি মিলবে কি না, তা নিয়ে তাই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

যেভাবে দেওয়া হয় অনুমতি
বিদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে কনসার্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমতির একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। এরপর নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মতামত ও প্রতিবেদন নেওয়া হয়।

এই প্রক্রিয়ায় পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় আসে। এসব প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়।
আয়োজকদের এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজস্বসংক্রান্ত কিছু আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করতে হয়। বিদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পরিশোধ করতে হয়। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)-সংক্রান্ত হিসাব ও পরিশোধের বিষয় রয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের দর্শক ধারণক্ষমতা এবং টিকিট বিক্রির পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে এ হিসাব করা হয়।

সংকট কোথায়
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আয়োজক প্রথম আলোকে জানান, আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তিনটি কনসার্টের কোনোটিরই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আরেকজন আয়োজক জানিয়েছেন, তাঁদের এখন পর্যন্ত হ্যাঁ বা না, কিছুই বলা হচ্ছে না। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা অনুবিভাগ জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু আয়োজকদের জানানোর সুযোগ নেই। তবে সেখান থেকে জানানো হয়েছে প্রয়োজনীয় সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তাই বিষয়টি এখনো তাদের হাতে নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুনিমা হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের হাতে এখনো সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন আসেনি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই আমরা পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। এটি না এলে এখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। এখনো তো এক দিন আছে, আমরা দেখি কী হয়।’

অনুমতির সর্বশেষ অবস্থা জানতে যোগাযোগ করা হয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি প্রশাসন অনুবিভাগের অনুষ্ঠান শাখা থেকে দেখা হয়। যুগ্ম সচিব আইরীন ফারজানা বিষয়টির দায়িত্বে আছেন। তবে তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এ বিষয়ে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো তাদের কাছে কোনো প্রতিবেদন আসেনি। প্রতিবেদন আসার পর তারা চূড়ান্ত অনুমতির সিদ্ধান্ত নেন। আজ সন্ধ্যায় হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। আমরা এরপর সিদ্ধান্ত নিই। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো প্রতিবেদন পাইনি।’

আয়োজকদের অভিযোগ
আয়োজকদের অভিযোগ, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন এবং অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কিছু সরকারি সংস্থা এখনো প্রতিবেদন না দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ মুহূর্তে এসে আটকে আছে। কনসার্ট ঘিরে এরই মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হয়েছে। ফলে এখনো অনুমতি না মেলায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা। আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সম্মানহানির ঝুঁকিতেও আছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

আয়োজকদের কেউ কেউ বলছেন, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত সময় পার হলেও প্রতিবেদন না পাওয়ায় তাঁদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কারণ, এরই মধ্যে শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ভেন্যু, মঞ্চ, শব্দ, আলোকসজ্জাসহ প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। অনলাইনে টিকিটও বিক্রি হচ্ছে।

কাদের গাওয়ার কথা
২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের দুটি কনসার্টেই তালিকায় পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন সংগীতশিল্পী আছেন, আছেন দেশের তারকারাও। ‘সেন্স ইট উইথ মুর্তজা কিজিলবাশ’ শিরোনামের কনসার্টের আয়োজন করেছে ঢাকা বিটস এবং সেন্স ইট বাই লেটস ভাইব। এটি তরুণ পাকিস্তানি গায়ক মুর্তজা কিজিলবাশের প্রথম আন্তর্জাতিক কনসার্ট। মুর্তজার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদেরও মঞ্চ মাতানোর কথা রয়েছে।

একই দিনে ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’ শিরোনামের কনসার্টে পারফর্ম করার কথা বাংলাদেশের রকস্টার নগরবাউল জেমসের। পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে জেমসের সঙ্গে আরও পারফর্ম করার কথা আছে পাকিস্তানের সংগীতশিল্পী আলী আজমত, রক্সেন ব্যান্ডের মুস্তাফা জাহিদ ও জাল ব্যান্ডের। জুনুন ব্যান্ডের হয়ে আগে দুইবার বাংলাদেশে পারফর্ম করলেও একক শিল্পী হিসেবে ঢাকায় এটিই হতে যাচ্ছে আলী আজমতের প্রথম কনসার্ট। গত বছরের মে ও নভেম্বরে একক শিল্পী হিসেবে তাঁর ঢাকায় গান শোনানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুটি কনসার্টই বাতিল হয়ে যায়। নভেম্বরের কনসার্টের জন্য ঢাকাতেও এসে পৌঁছেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ফিরে যেতে হয়েছে তাঁকে। একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল মুস্তাফা জাহিদের সঙ্গেও। গত বছরের এপ্রিলে ঢাকায় এসেও শেষ পর্যন্ত গান না শুনিয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল এ শিল্পীকে। অন্যদিকে গত বছরের ৮ নভেম্বর ৩০০ ফুটের স্বদেশ অ্যারেনায় জাল ব্যান্ডের কনসার্টটি আয়োজনের এক দিন আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়।
এর পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকায় পারফর্ম করার কথা পাকিস্তানের জনপ্রিয় কাবিশ ব্যান্ডের। ‘ওয়েভ ফেস্ট: এনজয় দ্য ফুল মুন’ শিরোনামের কনসার্টটির আয়োজক প্রাইম ওয়েভ কমিউনিকেশন। কাবিশের সঙ্গে সেখানে গাওয়ার কথা দেশের শিরোনামহীন ও মেঘদল ব্যান্ডের। গত ৫ ডিসেম্বর কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল। অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটি স্থগিত হয়ে যায়।

Lading . . .