জ্বালানি অস্থিরতার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে দায়ী করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানি অস্থিরতার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে দায়ী করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেছন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে আজকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু তারা সেটাকে বিবেচনায় না নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেটা জঘন্য অপপ্রচার বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, জ্বালানি অস্থিরতার জন্য সরকার নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দায়ী।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে বিএনপির কৃষিবিদদের সংগঠন অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিতে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। ‘সারা দেশে আওয়ামী লীগের সংগঠিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল হয়।’
সরকারের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ৭০ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজেল কিনতে হচ্ছে ২০৫ টাকা লিটার দরে, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।
বিক্ষোভ মিছিলে এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ কামরুজ্জামান কায়সার, সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেন, এ্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুন্নবী শ্যামল, আমিরুল হক, মাহবুব ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি জাহিদুল কবির প্রমুখ অংশ নেন।
শান্তির প্রবাহ বিঘ্ন করার চেষ্টা করছে অনেকে
দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের এক আলোচনা সভায় জ্বালানিসংকটের মধ্যে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করেন রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে পানিপথ দিয়ে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি আসে, এলএনজি আসে, গ্যাস আসে, সেটা এখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। বিশ্বমন্দার যে পরিস্থিতি, সেটা আইডেন্টিফাই না করে জনমনে একটা ধোঁয়াশা তৈরি করার জন্য আপনারা কর্মসূচি দিচ্ছেন।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী আরও বলেন, ‘আজকে যাঁরা এই তেলের মূল্যবৃদ্ধি সংকটের জন্য লংমার্চ করছেন, তাঁদের বলি—আপনাদের যদি জনগণের প্রতি দরদ থাকত, তাহলে আপনারা জ্বালানি সাশ্রয় করতেন। আপনারা ৪০০ গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুর গেছেন। জ্বালানিসংকটের এই ক্রান্তিকালে ৪০০ গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে যাত্রা করা একপ্রকার অপচয়।’
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ হচ্ছে এবং ওই রাস্তা দিয়ে সবচেয়ে বেশি আমাদের তেলের জাহাজ আসে। হরমুজ প্রণালি এখন বন্ধ। তেলের জাহাজগুলো ওই পথে জাহাজ চালাতে চাচ্ছে না, তাদের আশঙ্কা ওখানে মাইন পোঁতা থাকতে পারে। আকাশ দিয়ে বোমা এসে পড়তে পারে এবং পড়েছেও তা–ই। এই বৈশ্বিক সংকটের কারণে আজকে এই মূল্যবৃদ্ধি। সেটাকে আপনারা (বিরোধী দল) বিবেচনায় না নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং জঘন্য অপপ্রচার।’
জ্বালানিসংকটের মধ্যে সাড়ে চার শ গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চ করতে গিয়ে বিরোধী দলের কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
‘এনসিপি আওয়ামী লীগের মতো আগুন-সন্ত্রাস শুরু করেছে’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, দেশকে অশান্ত করার জন্য টোকাই ভাড়া করে বাসে-ট্রেনে আগুন দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত-এনসিপি মিলে একসঙ্গে এই আগুন-সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘১৯৯৬ সালের পুরোনো প্রেম আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে আবার জাগ্রত হয়েছে।’
মুসলিম লীগের (একাংশ) সভাপতি নাসিম খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন গণদলের গোলাম মাওলা চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মোস্তাফিজুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) খোকন চন্দ্র দাস প্রমুখ।


