Advertisement

অটিজম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কেন বাড়ছে

প্রথম আলো

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৫

অটিজম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরাফাইল ছবি: রয়টার্স
অটিজম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরাফাইল ছবি: রয়টার্স

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার সংক্ষেপে এএসডি নামে পরিচিত। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যাটি সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত বিষয়। প্রারম্ভিক পর্যায়ে অটিজমের উপসর্গগুলো মা-বাবা শনাক্ত করতে পারলে শিশুকে অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা যায়। আর তাই অটিজম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত অটিজম গবেষণা ও প্রচারণামূলক দাতব্য প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকার প্রধান নির্বাহী জেমস কুস্যাক বলেন, ‘মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে আমরা আসলে খুব বেশি কিছু বুঝতে পারি না। অটিজমের আসল কারণ খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। আমার মনে হয়, ২০ বছর আগে মানুষ যতটা ভেবেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। অটিজম মূলত শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের একটি সমস্যা। জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, যা সামাজিক যোগাযোগ, আচরণ ও মিথস্ক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা জিনগত ও পরিবেশগত কিছু কারণকে এর জন্য দায়ী মনে করেন। মা–বাবার বয়স বেশি হলে বা গর্ভাবস্থায় জটিলতা দেখা দিলে অটিজমের ঝুঁকি বাড়তে পারে।’

সুইডেনের স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের শিশু ও কিশোর–কিশোরীদের মনোরোগ–বিশেষজ্ঞ সভেন বোল্টে বলেন, ‘আমরা অটিজমের মহামারি দেখতে পাচ্ছি না, তবে আমরা রোগনির্ণয়ের জন্য অনেক প্রচেষ্টার মহামারি দেখতে পাচ্ছি। ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে অটিজম নির্ণয়ের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। একসময় অটিজমকে একটি বিরল রোগ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর থেকে মানসিক রোগনির্ণয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অটিজমের সব ধরনের লক্ষণকে একটি একক অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে এখন আরও বেশি শিশুকে এই স্পেকট্রামের মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে শনাক্তের হার বেড়েছে।’

সভেন বোল্টের তথ্যমতে, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অটিজম নিয়ে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। মা–বাবা, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের মধ্যে এ বিষয়ে জ্ঞান বাড়ার কারণে অনেক কম বয়সেই শিশুর মধ্যে লক্ষণ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে অটিজম শনাক্তকরণের জন্য উন্নত পরীক্ষা ও পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। শিশু যদি নির্দিষ্ট কিছু আচরণ করে বা কিছু মাইলফলক অর্জন না করে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। এটি অটিজম নির্ণয়ের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করেছে।

সূত্র: নেচার

Lading . . .