প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬

ইদানীং কলকাতা থেকে আরব সাগরের পাড়েই বেশি যাতায়াত টালিউড অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের। কারণ ছোট থেকেই মুম্বাইয়ের সঙ্গে তার এক অদ্ভুত যোগ রয়েছে। কলকাতা শহরে কম দেখা যায় অভিনেত্রীকে। যদিও আসন্ন সিনেমা ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’র জন্য এখন কলকাতাতেই রয়েছেন তিনি। বাবা-মেয়ের গল্প। সিনেমার প্রচারের ফাঁকে মাঝে মধ্যেই নিজের বাবার স্মৃতি ভেসে আসে তার মনে।
অভিনেত্রী বলেন, এখন সবাই আমার মুম্বাই যাতায়াত নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু ছোট থেকে এই শহরটার সঙ্গে নিবিড় যোগ রয়েছে আমার। বাবা বলতেন— পরীক্ষায় ভালো ফল করলে আমাকে মুম্বাই নিয়ে যাবেন। সেখানে আমার মনের মতো জিনিস কিনে দেবেন। তিনি বলেন, তাই পাকাপাকিভাবে মুম্বাইয়ে থাকা নিয়ে আলোচনা খুব যে প্রয়োজন, তা মনে করছেন না।
বেশ কিছু ধরে অনেকবারই নানা আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেত্রীর নাম। কখনো প্রযোজক-অভিনেতা দেবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। আবার কখনো কেন কম কাজ করছেন তা নিয়েও প্রশ্নে জর্জরিত অভিনেত্রী। কিন্তু কাজ না থাকলে তাকে যে হাতের নাগালে সহজে পাওয়া যায় তেমনটি নয়। সামাজিক মাধ্যম থেকেও তিনি দূরে থাকেন।
রুক্মিণী বলেন, আমি কোনো দিনই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় নই। কাজ থাকলে তখনই দেখা যায়, তা হলে কেন এত আলোচনা জানি না?
অর্ণব মিদ্যা পরিচালিত ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ সিনেমায় তুলে ধরা হবে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের সমীকরণ। একটা সময় মা-বাবারাও শিশু হয়ে যায়। এ সিনেমায় ঠিক এমনই দৃশ্য দেখা যাবে। আর ‘সিঙ্গেল পেরেন্ট’ হলে তো কথাই নেই। তবে বাবা-মেয়ের সমীকরণের বাইরেও লুকিয়ে রয়েছে এক অন্য গল্প।
রুক্মিণী বলেন, টিজার দেখে অনেকেই প্রথমে পিকুর সঙ্গে তুলনা করছিলেন। কিন্তু ট্রেলার আসার পর কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন মা-বাবার অনুভূতির কথা।
অভিনেত্রী বলেন, অনেক সময় আমরা ভুলে যাই, মা-বাবা হওয়ার থেকেও বড় জিনিস, তারা মানুষ। তাদেরও চাওয়া-পাওয়া রয়েছে। সব কথা যে সন্তানদের সঙ্গে বলতে পারবেন তেমনটি নয়। তাদেরও সঙ্গীর প্রয়োজন হতে পারে। অর্ণব এই জায়গাটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
এর আগে ২০১৭ সালে বাবাকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র। তার পর থেকে মা মধুমিতা মৈত্র তাকে এবং দাদা রাহুলকে দুই হাতে আগলে রেখেছেন। অভিনেত্রী অনেক সাক্ষাৎকারেই বলেছেন, মা তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। সব কথা শেয়ার করে নিতে পারেন তিনি।
রুক্মিণী বলেন, সত্যিই মাঝে মধ্যে ভাবি— আমার তো এখন একটা জগৎ আছে। কাজের ব্যস্ততা রয়েছে। বন্ধুরা আছে। মনের কথা বলার মানুষ আছে। কিন্তু মায়ের তো একা লাগতে পারে। সব কথা কি আমার সঙ্গে বলতে পারে?
বাস্তবে নায়িকার জীবনে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে কি তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারতেন রুক্মিণী? অনেক ভেবে অভিনেত্রী উত্তর দেন— সত্যিই জানি না। সিনেমার প্রচার করছি। ক্যামেরার সামনে যা সহজ, বাস্তবে মায়ের কোনো সঙ্গী হলে কি মানিয়ে নিতে পারতাম? তিনি বলেন, সত্যিই জানি না এখন। বলতেই পারব না— পরিস্থিতিতে পড়লে কী রকম প্রতিক্রিয়া হতো আমার।
সিনেমার প্রচারের ফাঁকেই দেবের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এমনকি নানা আলোচনার মাঝে তার নীরব থাকার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, বছর শুরু হয়েছিল ‘বিনোদিনী, একটি নটীর উপাখ্যান’ দিয়ে, আর শেষ হচ্ছে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ দিয়ে। দুটো সিনেমাই জাতীয় স্তরে সম্মান পাচ্ছে। আমি ইতিবাচক দিক দেখতে চাই। কাছের মানুষ, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আমি ভালো আছি। হাজারটা ভালো-মন্তব্যের মাঝে আমি খারাপকে কেন গুরুত্ব দেব? আমি মেয়ে, কিন্তু বোকা মেয়ে নই।
এর মধ্যেই অনুরাগীদের ধোঁয়াশাও কাটিয়েছেন অভিনেত্রী। পাকাপাকিভাবে মুম্বাই নয়; কলকাতাতেও অনেক সময় আসেন তিনি। রুক্মিণীর মতে, কাজ ছাড়া তার বাকিটা একান্তই ব্যক্তিগত। তাই তিনি কখন কোথায় থাকছেন, সেটি জানতে পারা না গেলেও কোনো সমস্যা নেই।


