Advertisement

ডায়াবেটিস রোগীর নিউমোনিয়া কেন ঝুঁকিপূর্ণ

প্রথম আলো

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুর কারণে হতে পারে। যেকোনো মানুষের নিউমোনিয়া হতে পারে, তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি ও জটিলতা বেশি। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। ফলে জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও তখন গুরুতর নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে।

কেন নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি

রক্তে অনিয়ন্ত্রিত শর্করা শ্বেতরক্তকণিকার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কারণে ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে। বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।

নিউমোনিয়া হলে ডায়াবেটিস রোগীর শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা, কিটো-অ্যাসিডোসিস বা অন্যান্য বিপজ্জনক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীর নিউমোনিয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়।

কোন লক্ষণগুলোতে সতর্ক হবেন

নিউমোনিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো জ্বর বা কাঁপুনি; কাশি, কখনো কফসহ; শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া; বুকব্যথা, বিশেষ করে শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময়; অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অবসাদ; ক্ষুধামান্দ্য; অস্বাভাবিক আচরণ।

কখন হাসপাতালে যেতে হবে

শ্বাস নিতে খুব কষ্ট, ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা বিভ্রান্তি, তীব্র বুকব্যথা, বারবার বমি, পানিশূন্যতা অথবা রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি ওঠানামা করলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

বিশেষ করে বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগী বা হৃদ্‌রোগ, কিডনির রোগে আক্রান্ত থাকলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী গুরুত্বপূর্ণ

নিউমোনিয়ার চিকিৎসা এর কারণ ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়, বিশেষ করে ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার চিকিৎসার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ অবস্থায় ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা ঠিক নয়; চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সমন্বয় করতে হবে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিয়মিত শর্করা পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন।

টিকা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোকক্কালসহ প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া নিউমোনিয়ার ঝুঁকি ও জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে সতর্ক থাকা জরুরি।

ধূমপান ফুসফুসের প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান পরিহার করুন।

পুষ্টিকর ও সুষম খাবার, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ডা. মো. তালহা চৌধুরী , কনসালট্যান্ট, ফ্যামিলি মেডিসিন; চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর ১০, ঢাকা

Lading . . .