‘সেভেন’ থেকে ‘ফাইট ক্লাব’, ফিঞ্চারের সেরা ১০ সিনেমা কোনগুলো
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৫

বিশ্বের আলোচিত পরিচালকদের একজন ডেভিড ফিঞ্চার। মিউজিক ভিডিও দিয়ে তিনি নির্মাণ ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রায় এক দশক মিউজিক ভিডিও বানানোর পর সিনেমায় নিয়মিত হন। তিনবার অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছে তিনি। পরিচালক হিসেবে জয় করেছেন বাফটা, গোল্ডেন গ্লোবসহ একাধিক পুরস্কার। ১৯৬২ সালের আজকের দিনে তাঁর জন্ম। বিশেষ এই দিনে এই পরিচালকের সেরা ১০ সিনেমা সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। রটেন টমাটোজ সিনেমা সমালোচকদের সম্পাদকীয় বিভাগ সেরা ১০টি সিনেমার তালিকা তৈরি করেছে। সিনেমা সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে এই প্ল্যাটফর্ম।
১. ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ (২০১০)
কীভাবে তৈরি হলো আজকের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক? এর পেছনে মার্ক জাকারবার্গের কী ভূমিকা ছিল। সেই গল্প নিয়েই ডেভিড ফিঞ্চারের এই সিনেমা। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন জেসি আইজেনবার্গ, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড, জাস্টিন টিম্বারলেক প্রমুখ। আটটি শাখায় অস্কার মনোনয়ন পায়, পুরস্কার পায় তিনটিতে। সিনেমাটিকে এক নম্বরে রেখেছেন রটেন টমাটোজের সমালোচকেরা।
২. ‘জোডিয়াক’
২০০৬ সালের আলোচিত সিনেমা ‘জোডিয়াক’। সিনেমাটির আইএমডিবির রেটিং ৭.৭। রটেন টমাটোজ মনে করে, এটা ডেভিড ফিঞ্চারের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল সিনেমা। এই সিনেমাতেও উঠে এসেছে গোয়েন্দা গল্প। ১৯৬৮ সাল থেকে ৮৩ সাল পর্যন্ত একের পর এক ক্যালিফোর্নিয়া শহরে খুন হতে থাকে। কে এই সিরিয়াল কিলার? একজন কার্টুনিস্ট এই রহস্যের উদ্ঘাটন করা শুরু করেন। এই গোয়েন্দা কি পারবেন ‘জোডিয়াক’–কে খুঁজে বের করতে?
৩. ‘গন গার্ল’
হঠাৎ এক নারী নিখোঁজ হন। কোথায় কীভাবে নিখোঁজ হন, সেটা ঘটনাক্রমেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে সিনেমাপ্রেমীদের। কারণ, একসময় নিখোঁজ নারীর স্বামী নিজেই ফেঁসে যেতে থাকেন। তিনিই হয়ে ওঠেন প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি। বেন অ্যাফ্লেক্সকে নিয়ে ২০১৪ সালে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেন ফিঞ্চার। ‘গন গার্ল’ সিনেমাটি মুক্তির পরে তুমুল আলোচিত হয়। আইএমডিবির বিশ্বের সেরা ২৫০ সিনেমার তালিকায় ২১৬ নম্বরে রয়েছে।
৪. ‘দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু’
এটিও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। এটি সেরা সিনেমার তালিকায় ৪ নম্বরে রয়েছে। ২০১১ সালের সিনেমাটির আইএমডিবি রেটিং ৭.৮। দীর্ঘদিন আগের অমীমাংসিত একটি হত্যাকাণ্ড নিয়েই এ সিনেমা। কেন ৪০ বছর পরেও একটি মামলা অমীমাংসিত, বিচারব্যবস্থার কোনো দায় আছে কি না এমন প্রশ্ন তুলেছিল এই সিনেমা। সিনেমা ভক্তদের নানা রহস্যের মধ্যে নিয়ে যায় এই গল্প। রহস্যময় গল্পটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডেনিয়েল ক্রেগ।
৫. ‘দ্য কিলার’
ডেভিড ফিঞ্চারের সিনেমাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য সিনেমাগুলো মনস্তাত্ত্বিক জগতের দ্বন্দ্বকে নিয়ে বা সাইকোলজি থ্রিলার; একই সঙ্গে গল্পে থাকে টানটান উত্তেজনা। বেশির ভাগ বাস্তবনির্ভর অ্যাকশন। একই সঙ্গে গল্পগুলো নানা প্রশ্ন তৈরি করে। ২০২৩ সালের সিনেমা ‘দ্য কিলার’–কে তেমনই একটি সিনেমা বলে মনে করেন রটেন টমেটোজ। সিনেমায় তুলে ধরা হয় এক নিখুঁত খুনির গল্প। যার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়া নেই। যে খুন করার জন্য ধৈর্য ধরে থাকে। এই পেশাদার খুনির জীবনেরও রয়েছে আলাদা গল্প। সিনেমাটির আইএমডিবি রেটিং ৬.৭।
৬. ‘ম্যানঙ্ক’
রহস্য গল্প থেকে সরে একদমই ভিন্ন ঘরানার ডকুড্রামা স্টাইলে প্রথম কোনো সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন এই পরিচালক। তুলে ধরলেন ১৯৩০ সালের হলিউডের চিত্রনাট্যকার হারম্যান জে. মানঙ্কিউইচের জীবনের নানা ঘটনা ও সেই সময়ের হলিউডের রাজনীতি কিছু অংশ। গল্পে ওরসন ওয়েলসের কালজয়ী সিনেমা ‘সিটিজেন কেন’–এর চিত্রনাট্য কীভাবে লিখেছিলেন, সেটা দেখানো হয়েছে। জীবনীমূলক সিনেমাটিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা, সৃজনশীল–প্রক্রিয়া, ৪০ দশকের হলিউডের রাজনৈতিক নানা ঘটনা উঠে এসেছে। সিনেমাটি দুটি শাখায় অস্কার পায়। সিনেমায় মানঙ্কিউইচের চরিত্রে গ্যারি ওল্ডম্যান অভিনয় করে তুমুল প্রশংসিত হন।
৭. ‘সেভেন’
একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। এই তদন্তে নামে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পরে জানা যায়, সাত পাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তিদের খুন করে এক ক্রমিক খুনি। সেই গল্প নিয়েই সিনেমা ‘সেভেন’। ১৯৯৫ সালে আলোচনার ঝড় তোলে সিনেমাটি। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে এটি রিমেক হতে থাকে। সিনেমাটির রেটিং ৮.৬। এটিকে ভোট দিয়েছেন প্রায় ২০ লাখ আইএমডিবি ব্যবহারকারী। মরগান ফ্রিম্যান, ব্র্যাড পিটের ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য সিনেমার একটি ‘সেভেন’। ব্র্যাড পিট সিনেমাটি সম্পর্কে বলেছিলেন, বিশ্বের পারফেক্ট সিনেমার একটি ‘সেভেন’।
৮. ‘ফাইট ক্লাব’
‘সিনেমাটি মূলত আমাদের সমাজের ভণ্ডামি, ব্যক্তিস্বতন্ত্রের টিকে থাকা নিয়ে নানা সংকটের প্রশ্ন তোলে’—এমনটাই মনে করে রটেন টমাটেজের সমালোচকেরা। ‘ফাইট ক্লাব’–এর মধ্য দিয়ে অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা ও বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া মানুষেরা কি নিজের প্রকৃত সত্তাকে খুঁজে পায়। আইএমডিবির ২৫ লাখ ব্যবহারকারী সিনেমাটিকে ভোট দিয়েছেন। এর রেটিং ৮.৮। ব্র্যাড পিটের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল সিনেমা এটি।
৯. ‘দ্য গেম’
জন্মদিনের অদ্ভুত এই উপহার ঘিরেই এই সিনেমা। যে উপহারের পরে শুরু হয় একটি ভয়ানক খেলা। এই খেলা কী জীবন থেকে সবকিছুকে বিস্মৃত করে দেবে? এই খেলার নেশার মধ্যে সামনে আসে কোনো এক ষড়যন্ত্রের গন্ধ। সেই ঘটনা নিয়েই সিনেমা ‘দ্য গেম’। এর আইএমডিবি রেটিং ৭.৭। ভোট দিয়েছেন সাড়ে ৪ লাখ দর্শক। মাইকেল ডগলাস, শন পেনদের মতো তারকাদের নিয়ে সিনেমাটি। এটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়। সিনেমাটি আয় ও প্রশংসিত হলেও পরিচালক হিসেবে ডেভিড ফিঞ্চার জানিয়েছিলেন, এটি নিয়ে তিনি খুশি নন।
১০. ‘প্যানিক রুম’
সিনেমায় জুডি ফস্টার এবং ক্রিশ্চিয়ান স্টুয়ার্ট মা ও মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। জুটি হিসেবে সিনেমাটি আলোচনায় আসে। জুডি ফস্টারকে সিনেমার জন্য ১২০ দিন শুটিং করতে হয়। এটি তাঁর জীবনে সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে শুটিং করা। এ ছাড়া সিনেমাটির চিত্রনাট্য প্রশংসিত হয়। এর চিত্রনাট্যের জন্য ৪০ লাখ ডলার গুনতে হয় কলাম্বিয়া পিকচার্সকে। মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সিনেমাটিতে উঠে এসেছে মা-মেয়ের নতুন একটি বাসায় আসার পরে ভয়ংকর গল্প। সেখানে এক অপরাধী বাসায় ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁরা বাসার সবচেয়ে নিরাপদ ‘প্যানিক রুম’–এ প্রবেশ করেন। সেখানে আটকে যাওয়ার গল্পটির আইএমডিবি রেটিং ৬.৮। এটিও ডেভিড ফিঞ্চারের সেরা সিনেমার একটি।